November 5, 2026, 3:58 pm
শিরোনাম :
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদন বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে চৌদ্দগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি, প্রাণনাশের হুমকি গুণবতীতে প্রাইজমানি ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল: ট্রাইবেকারে কুমিল্লার কাছে হারলো নোয়াখালী বিসিবির নতুন টুর্নামেন্টের নিলামে ক্রিকেটাররা আন্দোলন নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুলকে কড়া সমালোচনা মোদীর নোয়াখালীর হাতিয়ায় শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে তরুণ গ্রেপ্তার কোম্পানীগঞ্জে ভাড়া বাসা থেকে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার আদালতের নির্দেশে জাল দলিলের প্রতিবেদন দিয়ে আক্রোশের শিকার সাব-রেজিস্ট্রার সর্বাধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ব্র্যাক হেলথকেয়ার এখন নোয়াখালীতে নোয়াখালীতে ঘুমন্ত ভগ্নিপতিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, শ্যালক গ্রেপ্তার

স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচিয়ে নিউইয়র্কে প্রাণ হারালেন নোয়াখালীর সোহাগ

মোঃ মোছলেহ উদ্দীন, নোয়াখালী।।

মোঃ মোছলেহ উদ্দীন, নোয়াখালী।।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে উদ্ধার করতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি রফিকুল ইসলাম সোহাগ (৪৭) মারা গেছেন।

ঘটনার ২১ দিন পর শনিবার (১৮ জুলাই) ব্রুকলিনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। পরে স্থানীয় বাইতুল মামুন মসজিদে জানাজা শেষ নিউ জার্সির একটি মুসলিম কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন হয়।

নিহত রফিকুল ইসলাম সোহাগ নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ২ নম্বর নদনা ইউনিয়নের দক্ষিণ শাকতলা গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিউইয়র্কে বসবাস করে আসছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৬ জুন ভোরে নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন দুইতলা আবাসিক ভবনের বেজমেন্টে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (এফডিএনওয়াই) প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি লিথিয়াম-আয়ন চালিত ডেলিভারি ই-বাইকের ব্যাটারি বিস্ফোরণ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিলো।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুন লাগার মুহূর্তে সোহাগের স্ত্রী ও দুই সন্তান গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই বিষাক্ত ধোঁয়া ও আগুন পুরো বেজমেন্টে ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের জীবনের পরোয়া না করে স্ত্রী ও সন্তানদের নিরাপদ স্থানে বের করে আনেন সোহাগ।

তবে পরিবারের সবাইকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে পারলেও, তিনি নিজে মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হন এবং ফুসফুসে বিষাক্ত ধোঁয়া প্রবেশ করায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

সোহাগের এই মৃত্যুতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অনেকেই তাকে একজন প্রকৃত ‘সুপারহিরো বাবা’ এবং আত্মত্যাগী মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন।