নিজস্ব প্রতিবেদক খবির চৌধুরী
নোয়াখালী: বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (BGDCL) সংযোগ পেতে এবার ভয়াবহ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন জিআর ১৫৬/২৫ মামলার ১ নং আসামি ও তার সহযোগীরা। অভিযোগ উঠেছে, একজন শিক্ষক হয়েও নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে ‘মিজান’ নামক এক ব্যক্তি গ্যাস গ্রাহকলিটনকে নিজের হাতে ভুয়া জন্ম সনদ তৈরি করে এই জালিয়াতিতে সরাসরি সহায়তা করেছেন।আবার লিটন-মিজান দুজনের রক্ষাকবোচ হিসেবে সত্য ধামা চাপা দিতে নিরলস কাজ করছেন আতাউর রহমান রাজিব ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বাখরাবাদ গ্যাসের গ্রাহক সংকেত নং০৬/ডি/১১০৬৫এবং মিটার নং১০৩০এনএম-১২৪২৫৩-এর সংযোগটি নেওয়ার জন্য পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাকে বিভ্রান্ত করে সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচাইতে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, সংযোগের আবেদনে ব্যবহৃত জন্ম নিবন্ধন সনদটি (নং ১৯৭১৭৫১৮৭২৫০২২৫৯৫) কোনো সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তার হাতের লেখা নয়, বরং শিক্ষক মিজানের হাতের কারসাজিতে তৈরি।
শুধু জন্ম সনদই নয়, সরকারি ‘খতিয়ান’ (নং ৫৫৫) টেম্পারিং বা ঘষামাজা করে মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্যাস কর্তৃপক্ষের চোখে ধুলো দেওয়া হয়েছে। একজন শিক্ষক, যার কাজ সমাজ গড়া, তিনি কীভাবে একটি পরিবারের সম্পত্তি আত্মসাৎ ও অবৈধ সংযোগের জন্য দাপ্তরিক নথি জাল করতে কলম ধরলেন, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জালিয়াতির নেপথ্যে জিআর ১৫৬/২৫ মামলার ১ নং আসামি:ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, এই জালিয়াতির মূল হোতা জিআর ১৫৬/২৫ মামলার ১ নং আসামি। আদালত ও প্রশাসনের চোখে ধুলো দিতে তিনি খাগড়াছড়ি ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষক মিজানুর রহমান মিজান ও তার ছোট ভাই গ্লোবাল টিভির মোশন ভিডিও গ্রাফার আতাউর রহমান রাজিবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।দুজনই নিজ নিজ কর্মস্থলের সম্মানীত উচ্চ পদস্থদের নাম ভাঙ্গিয়ে সত্য ঘটনা ধামা-চাপা দেয়ার কাজে লিপ্ত। ইতিপূর্বে এই চক্রের বিরুদ্ধে ভুয়া পরিচয় ও জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন। বাদীআজকের সূর্যোদয় পত্রিকায় সতর্কীকরণ বিজ্ঞাপ্তি দিয়েছেন রেজাউল হক লিটনকে বেআইনী কর্ম থেকে বিরত থাকার জন্য 26 মার্চ2026
আইনজীবীদের পর্যবেক্ষণ:আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি নথি টেম্পারিং এবং ভুয়া জন্ম সনদ তৈরি করে গ্যাস সংযোগ নেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি কেবল বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের সাথে প্রতারণা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার। এই জালিয়াতির সাথে যুক্ত শিক্ষক মিজান, তার ভাই রাজিব এবং মামলার ১ নং আসামির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
ইতিমধ্যেই ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে গত২৫ মার্চ, ২০২৬তারিখে বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যার গৃহিত নং 4320।এখন দেখার বিষয়, এই সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র এবং তাদের সহযোগী “শিক্ষক” নামধারী মিজানের বিরুদ্ধে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়। #