May 16, 2026, 2:17 am
শিরোনাম :
৭নং ধর্মপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মর্মান্তিক ঘটনা গ্রুপিং এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি প্রথা দলের ক্ষতির কারণ….মোঃ জিহাদ সায়মন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে নোয়াখালীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হলে আপোষহীন, পরিশ্রমী ও ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব প্রয়োজন ১৫ বছর পর নোয়াখালী জেলা ক্রীড়া সংস্থার কারাতে কোচ হলেন আশরাফুল আলম সুমন নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক নিযুক্ত হলেন হারুনুর রশিদ আজাদ বর্নাঢ্য আয়োজনে হিল্লোল শিল্পীগোষ্ঠীর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত আগামি সুন্দর চর দরবেশ গড়তে সহযোগীতা দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশী রাশেদুল হাসান রাশেদ লোন অ্যাপের নামে মানুষকে ব্ল্যাক মেইলিং ও হয়রানী

নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী পরিবারের ওপর হামলা, সম্পত্তি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক :

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এক, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী পরিবারের ওপর হামলা, স্থাবর সম্পত্তি দখল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট একটি ক্যাডারচক্র এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ সেপ্টেম্বর , ২০২৫সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে, উপজেলার ৭নং মুছাপুর ইউনিয়নের চৌধুরী বাজার এলাকায়।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মুছাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মরহুম মোস্তফা খানের পুত্র যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী দৌলতানা খান দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান—আমরিন ও আনাফ—সহ দেশে ফিরতে পারেননি।

সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে আবদুল মন্নান(মান্নান হুজুর ) এর নেতৃত্বে জামায়াত-শিবিরের একটি গ্রুপ দৌলতানা খানের মালিকানাধীন চৌধুরী বাজারের একটি দোকানঘর ভাঙচুর করে দখলে নেয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

এতে বাধা দিতে গেলে দৌলতানা খানের তিন ভাই—ফজলে ইসলাম খান, নাসিরুল্লাহ খান ও নাজিম উদ্দিন খান (মোহন)—এবং তার শালক তুহিন তারিন ও তপনসহ স্বজনদের ওপর হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। প্রাণভয়ে তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

পরবর্তীতে অস্ত্র নিয়ে তাদের খোঁজ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে পরিবারের একাধিক সদস্য নিরাপত্তাহীনতার কারণে আত্মগোপনে রয়েছেন।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী দৌলতানা খান ও তার সন্তানরা দেশে ফিরলে হত্যা করা হবে—এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

এলাকার এক সচেতন নাগরিক আবদুল বাশার বলেন, “একটি ক্যাডারভিত্তিক রাজনৈতিক গোষ্ঠী এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করছে। সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন স্থানীয় ব্যক্তি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর জামায়াতে ইসলামী এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে ভয়ভীতি সৃষ্টি করছে। তার ভাষায়, “বর্তমানে দেশটি অনেক ক্ষেত্রে মব জাস্টিসের দিকে যাচ্ছে। ভয় ও হুমকির সংস্কৃতি তৈরি হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না।”

এ বিষয়ে দৌলতানা খানের ছোট ভাই ফজলে ইসলাম খান বলেন,
“জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা আমাদের পরিবারকে একের পর এক হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আমার বড় ভাইকেও হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমরা ভয়ে মামলা করতেও সাহস পাচ্ছি না। মানবাধিকার সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন,
“ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”