নিজস্ব প্রতিবেদক ::
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দাদির জন্য আম কিনে আনতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় তাসমির হোসেন নামে দাখিল ফলপ্রার্থী এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। তাসমির হোসেন উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের শাহজাহান লিটন ড্রাইভারের ছেলে। শনিবার সন্ধ্যায় তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।
নিহতের পিতা শাহজাহান লিটন ড্রাইভারের বরাতে স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার রাত পৌনে আটটার দিকে তাসমিন হোসেনের দাদি আম কিনে আনতে তাকে বাজারে যেতে বলে। তাৎক্ষণিক তাসমির হোসেন দাদির জন্য আম কিনতে বাড়ি থেকে বের হয়। কিছু সময় পর ট্রেন লাইনের পাশ দিয়ে এক ব্যবসায়ী হেঁটে যাওয়ার সময় তাসমির হোসেনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে বাড়িতে খবর দেয়। পরবর্তীতে বাড়িতে নিয়ে শনিবার সকালে মরদেহ নামাজে জানাযা শেষে দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানায়, ওই সময় ট্রেন লাইন দিয়ে মালবাহী ট্রেন চলাচল করেছে। হয়তো মোবাইলে কথা বলার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলে তাসমির হোসেনের মৃত্যু হয়। নিহতের বাবা শাহজাহান লিটন ড্রাইভারের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন। তবে এ বিষয়ে কোন তথ্য জানা নেই গুণবতী ষ্টেশন ও লাকসাম জিআরপি পুলিশের কাছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, কিছু দিন আগে কিশোর গ্যাং সদস্যদের সাথে তাসমিরের তর্ক হয়েছে। এ কারণে কতিপয় ব্যক্তি তাসমিরের মৃত্যু নিয়ে নানা ধরনের বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে। অপর কয়েকজন বলেন, তাসমির হোসেনকে মুঠোফোনে কল করে তাঁর এক বন্ধু বাড়ি থেকে বের করে। এর ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে বৈদ্যুতিক শর্ট দিয়ে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে ট্রেনের লাইনের পাশে ফেলে দিয়েছে দূর্বৃত্তরা।
এছাড়াও তাসমির হোসেনকে ছাত্রলীগ কর্মী দাবি করে আ’লীগ সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুকে হত্যা বলে দাবি করে নানা মন্তব্য করছে।
পারভেজ নামে একজন বলেন, তাসমির হোসেন ভদ্র ছেলে ও ছোট মানুষ। তাঁর কোন শত্রæ নেই। শুনেছি, ট্রেনের ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়েছে।
গুণবতী রেলষ্টেশন মাস্টার সাইফুল ইসলাম বলেন, ট্রেনের ধাক্কায় মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যুর বিষয় জানা নেই। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি।